লকডাউন দিছেন টিক আছে: কাজ না করলে খামু কি?

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ , ৪ জুলাই ২০২১, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 weeks আগে

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ঘরে ছোট্ট বাচ্ছা নিয়ে ছয় জন পরিবারে আছে। দুই মাস ধরে ঘর ভাড়া দিতে পারলাম না, তার উপর আবার লকডাউন। নন্দন পুর বি সিকে মাল টানি প্রতিদিন আজ না করে দিয়েছে। দেখেন ব্যান গাড়ি নিয়ে আইছি। এখন কি করমো লকডাউনে কোন কাজ নাই পরিবারের এতো জন খাউন্না কইতিকা যে কি করি কিছু মাথা ধরে না। কুট্রাপাড়া মোড়ে ব্যান চালক রহিম গাড়িতে হাত রেখে তার ভাষায়,এমন করে বলছিলেন পুলিশের চেকপোস্টে পাশে দাড়িয়ে।সরেজমিনে সরাইল উচালায়াপাড়া হাসপাতালে গেইটে গিয়ে দেখা যায়, মুখে মাস্ক লাগিয়ে রাস্তার পাশে কলা ঝুড়ি খোলে অসহায় হয়ে বসে আছেন ৭৫ বছরের হাফিজ। কিন্তু কোনো কাস্টমা’র নেই। এভাবেই চলছে দিন। আক্ষেপ করে হাফিজ বলে, ‘জীবিকার তাগিদে বাজারে আইছি, ঘরে চাল নাই এদিকে লকডাউনের কারণে বাজারে মানুষ নাই। তিন ছে’লে মে’য়ে ও পরিবার নিয়ে কেমনে বাঁচ’মু, বুঝতাছিনা।
রোড়ে পাশে বসা সিএনজি চালক মিয়া হোসেন, আজ তিনদিন ধইরা গাড়ি চালাই না। ঘরের চার- পাচঁজন খানাওয়ালা কি যে করি। না পারি কোন কাজ করতে ‘ সিএনজি দেনা চালাইতে। এখন অফাস থেকে মরতে হব পরিবার নিয়ে।অটোরিকশা চালক আতিক বলে,লকডাউন দিছেন টিক আছে: তার ভাষায় বলে, আমরা এখন করমো কি। ঘরে নাই খাবার দশজন খানা ওয়ালা। গাড়ি নিয়ে রোড়ে আইলে পুলিশ ভাই চাবি নেগা। দেখছেন আপনার সামনে পুলিশ চাবি নিয়ে গেছে। পুলিশ ভাই চাবি নেন তবে বলে যান আমরা গাড়ি না চালাইলে খামু কি? আমরারে খাওন দিন আর ঘর থেকে বাহিরে আইতাম না। এমন করে গতকাল শনিবার সরাইল উচালিয়াপাড়ার মোড়ে চালক আতিক বলছিলেন এ প্রতিবেদকে।
তার মতো আরো অনেকেই উপজে’লার অন্নদার মোড়, বিআরডিসির,শাহবাজপুর, চুন্টা ও কালিকচ্ছ বাজারসহ বেশ কিছু এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সিএনজি অটোরিকশা চালকরা । সম্প্রতি কাজ না থাকায় বেশিরভাগ চালক মানবেতর জীবনযাপন করছে।
একাধিক সিএনজি চালক জানান, লকডাউন না থাকলে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো আয় হতো। তাই দিয়ে তাদের সংসার চলতো। লকডাউনের কারণে সিএনজি বন্ধ হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে না খাইতে মরতে হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর