• লিড নিউজ সারাদেশ
  • মুরাদনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা প্রদানের পরেও ড্রেজারে বালু উত্তোলন চলছে

মুরাদনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা প্রদানের পরেও ড্রেজারে বালু উত্তোলন চলছে

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

এম কে আই জাবেদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা): কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৭নং বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা আর্সি নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার প্রভাবশালীরা গত কয়েক মাসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের বালু বিভিন্ন জনের নিকট বিক্রি করেছেন বলে জানাযায়। আর এই ড্রেজারের নেতৃত্বের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনের গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের ছত্রছায়াতে প্রায় দুই মাস ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে আর্সি নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি একাদিক বার প্রশাসনের নিকট জানানো হলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মুরাদনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল ধনপতিখোলা সরোজমিনে অভিযান চালিয়ে আর্সি নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় কয়েকজনকে আটক করেন। পরে এসিল্যান্ড তার নিজ কর্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে মুচলেখার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ভূমি অফিস থেকে ছাড়া পেয়ে পুনঃরায় প্রশাসন ও আইনের কোন তোয়াক্কা না করে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে মাটি উত্তোলন শুরু করে।

খবর পেয়ে বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তা হালিমা আক্তার অনুমোতি ছারা আর্সি নদী থেকে ড্রেজার চালাতে বাধা প্রদান করেন। এতে হালিমা আক্তারকে ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন নানা ভাবে হুমকি প্রদান করেন বলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি হালিমা আক্তার সাংবাদিকের নিকট অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন ‘রুহুল আমিন চেয়ারম্যান আমাকে নানা ভাবে হুমকি ধমকি প্রদান করে। পরে আমি বিষয়টি এসিল্যান্ড ও ইউএনও স্যারকে অবহিত করি। পরবর্তীতে আমার সুরক্ষার জন্য আমি বাঙ্গরা বাজার থানায় রুহুল আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি”।

অভিযোগের বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তহশিলদার হালিমা আক্তারের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে সেটি নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে কোন প্রকার হুমকি প্রদানের নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, ‘আর্সি নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেজার মালিক মুচলেখা দিয়েছে তারা আর মাটি উত্তোলন করবে না। যদি তার পরেও করে থাকে তাহলে আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি’।

অভিযোগের বিষয়ে বাঙ্গরা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের মতামত নিয়েই আমরা এলাকাবাসী আর্সি নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে ধনপতিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও কবস্থানের মাটি ভরাট কাজে ব্যবহার করছি। মাঝ সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার শ্রমীকদের জরিমানা করা হয়েছে। এখন অল্প একটু জায়গা ভরাটের বাকি তাই আবারো ড্রেজার চালাতে হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও কবরস্থান দুইটি জনস্বার্থে করা হচ্ছে এখানে কোন ব্যক্তি স্বার্থ নেই। আর তহশিলদার হালিমা আক্তারকে আমি কোন প্রকার হুমকি প্রদান করি নাই। এটা সম্পূর্ন মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিন।