ভূঁয়া বিল-ভাউচারে সরকারি অর্থ আত্মসাত করা তার মূলকাজ

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ , ৮ জুলাই ২০২১, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 weeks আগে

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. সিরু মিয়া এ দায়িত্বের কিছুই পালন করছেন না। বরং ইপিআই কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ভূঁয়া বিল-ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ফন্দিফিকিরমফ হয়ে উঠেছে তার মূলকাজ। সে কারণে জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এখানে পিছিয়ে পড়েছে ইপিআই কার্যক্রম।

অভিযোগ ইপিআই সেশনে বাড়িতে বসে পোর্টারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন পাঠানোর কাজ সারেন তিনি। এতে ভ্যাকসিন কমবেশি হয়। যাতে ইপিআই কার্য্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।

প্রতিদিন উপজেলা হাসপাতালে উপস্থিত থেকে ফ্রিজ ও আয়েলারের তাপমাত্রা রেকর্ড করার কথা থাকলেও সেটিও অনুমানিক রেকর্ড করছেন তিনি। অফিসে না গিয়েও ওভার টাইম ও নাস্তার বিলের টাকা নিচ্ছেন। এমন আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জেলার সিভিল সার্জনের কাছে সিরুর বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগ দিয়েছেন তার সহকর্মীরা। স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং অফিস স্টাফদের এসব অভিযোগে বলা হয়েছে। জেলা ইপিআই’র সুপারিনটেনডেন্ট, আমিরুল ইসলাম সিরুর মামা শ্বশুর। তার জোরেই ইপিআই কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব সে খেয়ালখুশিতে পালন করছে।

মাঠকর্মীরা তার এসব কাজের প্রতিবাদ করলে মামা শ্বশুরকে দিয়ে তাদের শায়েস্তা করা হয় । সিরু মিয়া ৯ বছর ধরে আশুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত।

গত ৩০শে জুন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. সিরু মিয়ার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান। এতে তিনি অভিযোগ করেন গত ২৯শে জুন সিরু মিয়ার কাছ থেকে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের সম্মানী ভাতা আনতে গেলে তাকে অশ্লীল গালাগাল করে রুম থেকে করে দেন সিরু।

এর আগে গত বছর সিরুর বিরুদ্ধে ৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী এবং অফিস সহকারী ও ক্যাশিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, মাঠে ভ্যাকসিন পাঠানোতে গাফিলতি করেন সিরু। ভ্যাকসিন একটি পাঠালে আরেকটি পাঠান না। তখন মাঠকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে টালিতে দেখিয়ে দিতে বলেন।
স্বাস্থ্য সহকারীদের ফাঁকিঝুঁকির কারণে ইপিআই আন্ত:ব্যক্তিক যোগাযোগ এবং শিশু ও গর্ভবতী রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদ হয়নি এ উপজেলায়।
ইপিআই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করবেন। এই সময়ে ফ্রিজ ও আয়েলারের তাপমাত্রা রেকর্ড করবেন। কিন্তু সিরু সে কাজ অনুমানিক রেকর্ড করেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও অতিরিক্ত সময়ের অর্থাৎ সকাল ৬টা থেকে ৯টা এবং বিকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কাজের ওভারটাইম ও নাস্তার বিল গ্রহণ করেন। প্রতিমাসে ফিল্ড পরিদর্শন না করেই ১২/১৪ দিনের ভ্রমণ ভাতা নেন। মাঠের কাজের জন্য মোটরসাইকেল থাকলেও সেটি ব্যবহার না করে জ্বালানি তেলের বিল গ্রহণ করেন। আর সরকারি মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছে তার ছেলে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান সহকারী এবং হিসাবরক্ষক থাকার পরও সিরু নিজেই সব বিল ভাউচার তৈরি করেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় প্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ, জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ও কোভিড-১৯ এর নানা কার্যক্রমের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে ১৭% কমিশন ট্রেজারির নাম ভাঙিয়ে গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ভুঁয়া উপস্থিতি দেখিয়ে নিজেই নামে-বেনামে স্বাক্ষর করে প্রশিক্ষণের সম্মানী ভাতা আত্মসাৎ করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিরু মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নূপুর সাহা বলেছেন, ইনচার্জ যে অভিযোগ দিয়েছেন সেগুলো আমার চোখেও পরিলক্ষিত হয়েছে। আমি আসার পর থেকে অনুভব করছি এখানে যারা ইনচার্জ থাকেন তাদের সঙ্গে তিনি (সিরু মিয়া) সমন্বয় করতে পারেন না। ইনচার্জকে সম্মান করেন না। তার অ্যাগেনেইষ্ট সবাই কথা বলে। সবার সঙ্গে তিনি মিলেমিশে যাতে কাজ করেন আমি সেই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তিনি তার মতো করেই চলেন। অফিসে আসলেও সময়ের ঠিক ঠিকানা থাকেনা। আবার যে কাজগুলো একবারেই তার করার কথা সেগুলো তিনি অন্যকে দিয়ে করান। অনেক সময় আমার কমান্ডও শুনেন না।

জেলার সিভিল সার্জন মো. সিরু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর