ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫টি চুন ফ্যাক্টরীসহ ৫শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ , ১৬ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত ২০ হাজার মিটার জব্দকৃত প্লাস্টিক পাইপ।

জহির রায়হান : বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির নলকূপ ও জমির মাটি ভেদ করে উদগরিত গ্যাস ঝুঁকিপূর্ণভাবেই রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন গ্রামবাসী। এই গ্যাস রাস্তার পাশে থাকা গাছের উপর দিয়ে প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিভিন্ন গ্রামে সরবরাহ করা হত। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকেরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলেও কোন কাজে আসেনি। তবে এবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়ার নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মজলিশপুর ইউনিয়নের বড় বাকাইল, বাকাইল বাজারসহ আশপাশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানকালে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল আহমেদের অবৈধ চুন ফ্যাক্টরীসহ অবৈধভাবে গড়ে উঠা ১৫টি চুন ফ্যাক্টরী ও গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক আবাসিক অবৈধ গ্যাসের সংযোগ, ১০টি হোটেলের বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত গ্যাস সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২০ হাজার মিটার প্লাষ্টিকের পাইপ এবং ১২০টা ড্রাম ধ্বংস করে।

ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এ.বি.এম মশিউজ্জামান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বৈদ্যসহ আরো ৫জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ডিজিএম জাহিদুর রেজা, বিজিএফসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) জাকির হোসেন তরফদার, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেওয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এই অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অবৈধভাবে গড়ে উঠা ১৫টি চুন ফ্যাক্টরী ও গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক আবাসিক গ্রাহকের অবৈধ গ্যাসের সংযোগ, ১০টি হোটেলের বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২০ হাজার মিটার প্লাষ্টিকের পাইপ, ১২০টা ড্রাম ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবার বুলড্রেজার দিয়ে অবৈধ চুন ফ্যাক্টরীগুলো গুড়িয়ে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিজিএফসিএল এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) জাকির হোসেন তরফদার জানান, ঝুঁকিপূর্নভাবে গ্যাস উদগরিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন বছর পরে এই গ্যাস আর থাকবেনা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর