বাংলার ক্রিকেটের মুকুটহীন রাজা!

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ , ৭ মার্চ ২০২০, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
Mashrafee Bin Mortaza
ছবিতে সতীর্থদের সাথে দেখা যাচ্ছে বাংলার ক্রিকেট এর জীবন্ত কিংবদন্তীকে! ছবিঃ গেটি ইমেজ

মাশরাফী বিন মর্ত্তুজা!, এক অদম্য প্রতিভা, অদম্য স্পৃহা, অদম্য এক শক্তির নাম! লড়াকু মানষিকতায় পূর্ন, অপ্রতিরোধ্য এক যোদ্ধা চরিত্রের নাম!! যার জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে সাহসিকতা, দেশপ্রেম আর অদম্য এক যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি। শত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে লাল সবুজ পতাকার সম্মানটাই যার কাছে মুখ্য! বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তী তিনি, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো টাইগার ক্রিকেটের সোনালী দিনের বংশীবাদক তার উপমা! তিনিই বাংলার ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক!

২০০১ সালে তার অভিষেক অতঃপর আজ দীর্ঘ ২০২০ পর্যন্ত তাকে লড়াই করতে হয়েছে লাগাতার। পারি দিতে হয়েছে অনেক দূর্গম পথ! লড়াই করতে হয়েছে নিজের সাথে, লড়াই করেছেন ইঞ্জুরির সাথে। তবে, শুরুটা হয়েছিলো দূর্দান্ত। ভয়ংকর গতি নিয়ে এসেছিলেন ক্রিকেটের ধরাধামে! ব্যাটসম্যান নাভিশ্বাস উঠে যেতো! কিন্তু ভালো আর ভালো থাকেনি, অতি সুখ কপালে থাকেনি! ক্যারিয়ার শুরুর পরই ঘাতক ইঞ্জুরি জেগে উঠলো। বার বার তাকে পিছনে টেনে ধরতে লাগলো।

তবে, তিনি থামেননি, বরং বার বার নতুন উদ্যমে এগিয়ে যান। এভাবেই এক সময় ইঞ্জুরি এই পর্যায়ে পৌছে যে, দুই হাঁটু মিলিয়ে ৭ বার অপারেশন, দুই অ্যাংকেল মিলিয়ে ১০বার ডাক্তারের ছুরির নিচে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। প্রতি ম্যাচ শেষে সিরিঞ্জ দিয়ে টেনে বের করতে হয় হাঁটুতে জমা বিষাক্ত রক্ত-পানি। ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে নামতে পারেন না বিছানা থেকে। হাঁটু দুটি কয়েকবার ভাঁজ ও সোজা করতে হয়। তারপরেই শুরু হয় দিন। স্বাভাবিক মানুষ হয়তো এর পর সোজা হয়ে দাড়াতেও পারতো না কিন্তু তিনি মাশরাফী! এভাবেই লড়ে যান অবিরাম!

ডাক্তাররা বলেছেন এভাবে ক্রিকেট চালিয়ে গেলে এক সময়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবেন। কিন্তু দমে যাননি, সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নেমে পড়েন বল হাতে। বাঘের মতো ছটে চলা। এ যেন এক অপ্রতিরোধ্য আরব ঘোড়া! তাকে রুখতে পারেনি এই বাধা, ইঞ্জুরি পারেনি তার অদম্য মানুষিকতায় পরিবর্তন আনতে।ডাক্তারের কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি, ঘাবড়ে যাননি !

ইঞ্জুরি বাধা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বললেন, দেশের জন্য পঙ্গুত্ব মেনে নিতেও আমি রাজি৷ আমি লড়েই যাবো অগ্রপানের পথিক হয়ে! হ্যাঁ, তিনি পেরেছেন তার প্রতিজ্ঞায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে থাকতে। সাহস আর অধ্যাবসায়ের সাথে প্রতিজ্ঞার সংমিশ্রণে হয়ে উঠেছেন দৃঢ় এক লড়াকু শক্তি।।

তবে সব কিছুরই একটা শেষ আছে, তাইতো শেষ এসেছে মাশরাফীর জীবনেও! যদিও এখনো ক্রিকেটকে বিদায় বলেন নি ; তবে বিদায় বলেছেন অধিনায়কত্বকে! শেষ হয়েছে কাপ্তান মাশরাফীর পথচলা। আর কখনো টস হাতে দেখা যাবেনা সবার প্রিয় ম্যাশ কে! তবে, বাংলার ক্রিকেটের ইতিহাসে তার নাম লিখা থাকবে সোনালী অক্ষরে। এদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্যে, তার অবদান অনস্বীকার্য !

তার ত্যাগ-তিতীক্ষা আর দেশের জন্য ভালোবাসা, তাকে করে তুলেছে চিরস্মরণীয়। হয়েছেন ক্রিকেট প্রেমীদের ভালোবাসার একজন,কারো বা হৃদয় স্পন্দন। কারো আদর্শ, কারোই বা অনুপ্রেরণা!