বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি আবেদ স্যার

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ , ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

কালের বিবর্তন ডেস্ক : ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ হাজারো গণমানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা ও ফুলেল শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বনানী কবরস্থানে।

রোববার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। কিংবদন্তি ‘আবেদ স্যার’কে শেষ শ্রদ্ধা জানান সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।

শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্যার ফজলে হাসান আবেদের মরদেহ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাখা হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। হাসপাতালের মরচুয়ারি থেকে আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে আসার আগে কিছুক্ষণের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হয় মহাখালীতে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে। সেখানে ব্র্যাকের শত শত কর্মী তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ‘প্রিয় আবেদ ভাই’কে হারানোর শোকে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুক্রবার রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

কনকনে শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই আর্মি স্টেডিয়ামে ভিড় করতে থাকেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্টেডিয়ামজুড়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে- স্যার ফজলে হাসান আবেদ সবার কতটা প্রিয় ছিলেন। সবাই জড়ো হয়েছিলেন বিশ্বব্যাপী এই খ্যাতিমান বাঙালিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও এসেছিলেন ক্ষণজন্মা এই মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানাতে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার কফিন আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়। এর পর প্রথমেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর আশিকুর রহমান। এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার উপ-সামরিক সচিব কর্নেল সাইফুল্লাহ। এর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর পর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম, জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নেবলেট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা যাকের, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষে রিদওয়ানুল হকসহ বিশিষ্টজনরা।

এ ছাড়া জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়, বাংলা একাডেমি, বিকাশ, কারিতাস, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ফেডারেশন অব এনজিও অব বাংলাদেশ, প্রশিকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয় স্যার ফজলে হাসান আবেদকে।

আর্মি স্টেডিয়ামে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান ব্র্যাকের কর্মীরা। শ্রদ্ধা জানান সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন চলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

দুপুর সাড়ে ১২টায় নামাজে জানাজার আগে স্যার ফজলে হাসান আবেদের ছেলে সাবেরান আবেদ বলেন, ‘আপনারা যারা আজ উপস্থিত হয়েছেন তারা আমাদের পাশে, ব্র্যাক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার বাবা সবসময় মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’ তিনি বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। জানাজা শেষে পরে মরহুমের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নিয়ে উপস্থিত সবাই অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন।

জানাজা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে স্যার ফজলে হাসান আবেদের কফিনবাহী গাড়ি এসে পৌঁছে কবরস্থানে। এখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। পরে মরহুমের আত্মীয়স্বজন চোখের জলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। ১৯৮১ সালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী আয়েশা হাসান আবেদের কবরেই তাকে সমাহিত করা হয়।