পলাশবাড়ীর সরকারি হাসপাতালের ক্যাশিয়ার রেজাউলের দাম্ভিকতা

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ , ২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী হাসপাতালে এক যুগেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা ক্যাশিয়ার রেজাউলের বিরুদ্ধে সরকারী মালামাল চুরি,নারী কেলেংকারী,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানীসহ বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও তার দাম্ভিকতা যেন থামছেই না! এতো অভিযোগ থাকার পরেও বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। স্ত্রী সন্তানের নামে পলাশবাড়ীসহ গ্রামের বাড়ীতে সম্পদ গড়েছেন ক্যাশিয়ার রেজাউল করিম। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানাযায় ,পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক যুগের ও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন হিসাব সহকারী রেজাউল করিম। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।

উল্লেখযোগ্য অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি ঔষধ চুড়ি একটি মামলার সন্দেহ ভাজন আসামী তিনি।পরবর্তীতে তাকে প্রধান স্বাক্ষী করে মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। পুলিশের চার্জসীট সন্তোাষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে হস্তান্তর করেন তৎকালীন চীপজুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরুজ্জামান যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। যদি ও জনস্বার্থে তৎকালিন মামলাটির বাদী হয়ে ছিলেন সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রতন। এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে হাসপাতালের মুল্যবান বেশ কয়েকটি মেহগনী গাছ বিক্রি করার।এছাড়াও নিজ বাড়ী ঘড়ের আসবাব পত্র তৈরী করতে তিনি হাসপাতালের মুল্যবান বেশ কিছু গাছ কর্তন করেছেন।তৎকালীন টিএইচও ডাঃ ওয়াজেদ আলী তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে ও অদৃশ্য কারনে তা চাপা পরে যায়। এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ গত কয়েক মাস পুর্বে জনৈক্য এক নারীকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ ওঠে।এ নিয়ে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে যা পরবর্তীতে তা থানায় বসে মিমাংসা করা হয়।

এর আগে গত ২১ মার্চ উপনির্বাচনের দিন হাসপাতালের লক্ষাধিক টাকা মুল্যের কয়েকটন পুরাতন রড,গ্রীলের দরজা, জানালা,চুড়ি করে জনৈক্য ব্যাক্তির ভাংরি দোকানে বিক্রি করা কালে এলাকাবাসী চুড়ির মালামালসহ হিসাব সহকারী রেজাউলকে আটক করে। প্রথমে তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে বিক্রি করার কথা বললে ও পরে অবস্থার বেগতিক দেখে তিনি বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিক রফাদফা করেন ক্যাশিয়ার রেজাউল করিম। এর আগে চোরাই মাল জব্দ করে ফেরত প্রদান পুর্বক হাসপাতালের নিদির্ষ্ট স্থানে রাখেন উপজেলা কমপ্লেক্স এর তত্বাবধায়ক আনিছুর রহমান।কিন্তু বিধিবাম! ততক্ষণে বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন পর্যন্ত জানাজানি হয়।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে অবশেষে টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। উপজেলা স্বাস্হ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা প্রথম দিনে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য আশ্বাস প্রদান করলে ও অদৃশ্য কারনে তিনি নীরব ভুমিকা পালন করেন।তার নীরবতা নিয়ে গনমাধ্যম কর্মীদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে এই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা না বললে ও তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানান। অভিযুক্ত রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার চাকুরী খাওয়ার ক্ষমতা কোন শালার নেই! সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বদলী হতে পারে!।চাকুরীর মাত্র ১ বছর আছে! চাকুরী শেষে তখন রাজনীতি করবো দেখি কেমনে কি হয়! উল্লেখ্য ,দীর্ঘদিন এক যুগের ও বেশি সময় এই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করা ক্যাশিয়ার রেজাউলের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাপা ক্ষোভ! বেতন বিল,বাড়ী ভাড়া,চিকিৎসা ভাতা,কল্যান ভাতা, ভ্রমন ভাতা,পোষাক তৈরী সহ অসংখ্য বরাদ্দ উত্তোলন বিতরন হয় এই হিসাব সহকারীর হাত থেকে।প্রতিটি বিল প্রস্তুত থেকে শুরু করে টাকা গ্রহণ পর্যন্ত তার কাছে হয়রানির স্বীকার হয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ক্যাশিয়ার রেজাউল পলাশবাড়ী পৌর শহরে জমিজমা ক্রয় করে বাসা বাড়ী করাসহ গ্রামের বাড়ীতে পরিবারের সদস্যদের নামে বেনামে অগাধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। কে থামাবে দুর্নীতিবাজ কর্মচারীকে! দিনের পর দিন, একের পর এক এভাবেই চলবে নাকি তদন্ত সাপেক্ষে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ হবে এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে! তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পলাশবাড়ীর সচেতন মহল।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর