নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধী পক্ষের নির্বাচনী প্রচারণাকারী এবার নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ , ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জি: বিগত সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধী পক্ষের নির্বাচনী প্রচারণা করেছিলেন তিনি। গত উপজেলার পরিষদ নির্বাচনেও তিনি প্রকাশ্যে অন্য এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার কথা তিনি নিজেও স্বীকার করেন। কিন্তু এবার নিজেই নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাজী সাইয়্যাদুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলার বিজয়নগর উপজেলার আহলে সুন্নাতুল ওয়াল জামাতের সভাপতি। প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে এবার মনোনয়ন দাবি করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, কাজী সাইয়্যাদুল ইসলাম নৌকা প্রতিক পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজী সাইয়্যাদুল ইসলাম গত এক বছর যাবৎ উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনিয়নের হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট সহ আনাচে-কানাচে ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলিয়ে নিজের প্রচারণা করছেন তিনি। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতা হলেও সম্প্রতি তার ব্যানার-ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের দাবি করছেন। এতে বিস্মিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে প্রকাশ্যে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মাঈন উদ্দিন আহম্মেদের আনারস প্রতিকের নির্বাচন করেছেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী তানভীর ভূঁইয়া নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হয়। জয় পান অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা মুকাই আলীর। এই বিষয়ে বুধন্তী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এফতেহারুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদের প্রায় ১০জন প্রার্থী রয়েছে। মনোনয়ন দাবি করা কাজী সাইয়্যাদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের কেউ না। তিনি বিগত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন করেননি। এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন’। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান জিতু বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আওয়ামীলীগের দলীয় লোককে নৌকা প্রদান করা হবে। দলীয় যে কাউকে নৌকা দিলে আমরা মেনে তা নেব। কিন্তু দলের বাইরের কাউকে দিলে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে’। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী হারিছুর রহমান বলেন, ‘বিগত ইউনিয়ন পরিষদ ও সংসদ নির্বাচনে তাকে (কাজী সাইয়্যাদুল ইসলাম) আমরা পায়নি। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ও এর আগেও একবার উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তিনিকাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। আমার বিশ্বাস দল এমন কাউকে মনোনয়ন দিবে না, যে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন’। এই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঁইয়া বলেন, কাজী সাইয়্যাদুল ইসলাম নৌকার বিপক্ষের লোক। তিনি বিগত সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাদের বিরোধিতা করেছেন। সে যেন নৌকার মনোনয়ন না পায়, আমার যতটুকু সাধ্য আছে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিব। এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী সাইয়্যাদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কারো বিরোধিতা করিনি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মাঈন উদ্দিন আহম্মেদের আনারস প্রতীকের নির্বাচনে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু তাও করতে পারি নাই। কারণ স্থানীয় এমপি সাহেব আমাকে বিরত থাকতে বলায়, আমি ঢাকায় চলে যাই। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে না দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়ন দাখিল করলে এমপি মহোদয়ের আশ্বাসে সরে দাঁড়িয়ে ছিলাম’।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর