• শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ
  • দেবিদ্বারে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও ভাতা বাতিলের আবেদনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান

দেবিদ্বারে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও ভাতা বাতিলের আবেদনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
ছবি - কালের বিবর্তন

এম কে আই জাবেদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার  দেবিদ্বার উপজেলার গেজেটভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ১১৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪৩০ মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া দাবি করে ও তাদের মু্ক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভাতা বাতিলের আবেদন জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন একই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মমিন সরকার।

সোমবার সকাল ১১টায় কয়েকশত মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা পরিষদ চত্তরে জমায়েত হয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ওই স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগকারী বিএলএফ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মমিন সরকার একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা যাচাই করা এবং তার ধৃষ্ঠতাপূর্ণ কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি  মানবন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবররে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বরাবররে স্মারকলিপি গ্রহনকালে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরনের ব্যবস্থা করব। গেজেটভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ৪৩০ বীর মুক্তিযোদ্ধার যাচাই বাছাইয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় লিখিত নোট ছাড়াও সেল ফেনে দ্রত যাচাই বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে আমাকে বলেছেন। বর্তমানে যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেই সেহেতু আমাকে পুনঃ যাচাই বাছাইয়ের কাজটি সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সম্পন্ন করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দপ্তরের সূত্রের আলোকে, স্মারক নং-০৫.০০.১৯৪০.০০০. ৪৬.০০১. ১৯-২৪৩/ তারিখ- ২৮/০২/২০১৯ইং এর অভিযোগটি গত বৃহস্পতিবার বিএলএফ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মমিন সরকার দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ৪৩০ জনের বিরোদ্ধে  তদন্ত স্বাপেক্ষে যাচাই বাছাইয়ের জন্য জমা দেন। প্রায় এক বছর  পরে বিষটি জানা-জানি হলে স্থানীয় উক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই বলেন, দির্ঘ ৯মাস শসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে দেশমাতৃকাকে শত্রু মুক্ত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। বিজয়ের ৪৯ বছর পর দেবীদ্বারের গেজেটভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত  ৪৩০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ ও ভাতা বাতিলের আবেদনে আমরা হতবাক হয়েছি। এতগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানী করায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, দুঃখিত, ক্ষুব্ধ এবং এ নেক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনে ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজের অপরাধে মোঃ আবদুল মমিন সরকার’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানাচ্ছি।

মুক্তিযোদ্ধারা আরো বলেন, অভিযোগকারী মোঃ আবদুল মমিন সরকার’র পৈত্রিক নিবাস দেবীদ্বার উপজেলার তুলাগাও গ্রামে হলেও মূলত তিনি চান্দিনা উপজেলার কেরনখাল গ্রামে নানার বাড়িতে ছাত্র জীবন থেকেই বসবাস করে আসছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে চান্দিনা কর্মরত বিএলএফ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে তিনি দাবী করলেও তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা আমাদের কাছে এখনো পরিস্কার নয়। তিনি যে অভিযোগটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে দাখিল করেছেন তা তার ব্যাক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান আউয়াল সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ রফিকুল ইসলাম,  মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাকুর রহমান ফুল মিয়া,  শাহাদাত হোসেন মাষ্টার, আলী হোসেন, আব্দুল আউয়াল, একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি কমরেড এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, আ’লীগ উপজেলা কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লুৎফর রহমান বাবুল প্রমূখ।