• জাতীয় শীর্ষ সংবাদ
  • তীব্র তাপদাহে পুড়ছে শার্শাবাসীঃ জনশুণ্য হয়ে পড়েছে ব্যস্ততম নগরী বেনাপোল

তীব্র তাপদাহে পুড়ছে শার্শাবাসীঃ জনশুণ্য হয়ে পড়েছে ব্যস্ততম নগরী বেনাপোল

প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ণ , ২৪ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মোঃ সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জেলা শহর যশোরে বইছে ৪২ বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবণ। তীব্র গরমের রেশ পড়েছে জেলার ব্যস্ততম বন্দর নগরী বেনাপোলে। অতি তীব্র তাপপ্রবাহে জনশূন্য হয়ে পড়েছে বন্দর সহ বেনাপোল এবং শার্শার রাস্তাঘাট। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউই। যাত্রীর অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন হাতেগোনা যানবাহনের চালকেরা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের বেনাপোল টু শার্শা ঘুরে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। যশোর বিমানবন্দর মতিউর রহমান ঘাঁটিস্থ আবহাওয়া অফিস সূত্র জানা গেছে গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৩৫ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার,শনিবার ব্যতীত প্রতিদিনই তীব্র যানজট লেগে থাকে বেনাপোল বন্দর সহ বেনাপোল শহরজুড়ে। অথচ তীব্র তাপদাহের কারনে জনশুণ্য হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাট। আন্তর্জাতিক এ সড়ক দিয়ে মানুষজন বিভিন্ন অফিস-আদালত, হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। ফলে মানুষের উপস্থিতি এবং যানবাহনের চলাচল সব থেকে বেশি থাকে সড়কটিতে।

তীব্র তাপদাহে জনশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো সড়কটি। মানুষের উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি যানবাহনের উপস্থিতিও নগণ্য। সড়কে নেই যানবাহনের উপস্থিতি।দু-একটা ইজিবাইক দেখা গেলেও যাত্রীর অপেক্ষায় মোড়ে মোড়ে বসে থাকতে দেখা গেছে চালকদেরকে।

বেনাপোল শহরের জিরো পয়েন্ট(সোনালী ব্যাংক মোড়) রাস্তার পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকা ইজিবাইক চালক কলিম ভুঁইয়া রনি বলেন- “বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেনাপোল শহর পুরো ফাঁকা হয়ে গেছে। এত গরমে মানুষ বের হবে কী করে? পেটের দায়ে বের হয়ে যাত্রী পাচ্ছি না। ভাড়ায় ইজিবাইক চালাই, মহাজনকে দেওয়ার মতো টাকা এখনও ওঠেনি। নিজের জন্যে তো দূরের কথা,পরিবারের জন্য খাদ্য-খাবার ক্রয়ের টাকা এখনও জোগাড় হয়নি”।

উল্লেখ্য,শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৭ এপ্রিল ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ১৬ এপ্রিল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বেনাপোলের স্থানীয় এক চিকিৎসক জনাব আব্দুল মান্নান(অবসর প্রাপ্ত,শার্শা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) বলেন,
“এই সময়ে ডায়রিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশি, পক্স, হিটস্ট্রোক, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি হতে পারে। প্রচণ্ড গরম থেকে মুক্তি পেতে কেউ যেন ডিপ ফ্রিজের পানি পান না করেন। এ সময় প্রচুর পানি, ডাবের পানি, দেশি ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন। দিনমজুর বিশেষ করে কৃষকরা যেন বেলা ১১টার মধ্যে এবং বিকালে তাপমাত্রা কমলে কাজ করেন সেই পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ডাক্তার”।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর