ঘরে খায়োন নাই, প্যাট কি অসুখ মানে !

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ , ৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

মোঃ তাসলিম উদ্দিন সরাইল প্রতিনিধিঃ চার-পাচঁদিন ধরে কাম কাজ নাই আজ একটি গাড়ি আইছে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড্ডা পাড়ায় করাত কল শ্রমিক এ প্রতিবেদককে বলেন, ’প্যাট কি আর অসুখ মানে! আমার হাত লরার উপরে চলে সংসার। কাজ বন্ধ হওয়ায় খুব কষ্টে আছি।’ তার ভাষায় বলে আসকা কাজে আইছি। পাঁচদিন ধরে কোন কাম কাজ নাই আমরার রোগের ভয় নাই পেটের টানে বাইরে গাড়ি থেকে গাছ নামাইতাছী।

সকালে ঘর থেকে বাইরোছি আর সাহস পাই না ঘরে যাওয়ার। সরকার থিকা কোন খাবার পাইনা। আমরা কি না খাইয়া মইরা যামু ? এ ভাবে কথা গুলো বলছিলেন করাত শ্রমিক ভুট্টাে মিয়া (৪৭)।সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভ্যান চালক মোঃ জালাল আলী। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে যা অর্থ আসে তা দিয়ে চাউল, ডাল কিনে বাড়ি ফিরেন। গত কয়েক থেকে কোন ভাড়া নাই।আজ এখন একটা ভারা পাইলাম।বাকি সময় ভ্যান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত-দিন কাটে। জালালের আলীর ছেলে মেয়েসহ ৬ জনের সংসার। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান তিনি। করোনা ভাইরাসে সব কিছু বন্ধ হওয়ায় পরিবারটি এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বড্ডা পাড়া এলাকায় কথা হয় করাত কল শ্রমিক জাকির (৪৫) ও রমজান মিয়া (৩৫) এর সাথে তারা জানান, কয়েক দিন ধরে পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। কোন কামাই নাই। মানুষ ঘর থেকে বেড়ায় না। ঘরে খাবার নাই। সরকার এখনও আমরার দিকে দেখে নাই। আজ যে খামো তার কোন কিছু নাই। কাম কাজ নাই, এখন বুঝি না খাইয়া মরতে হবে এ ভাবে তাদের কষ্টের কথা বলছিলেন।

এ দিকে করোনা ভাইরাসে সরাইল উপজেলায় সব দোকানপাট, যানবাহন ও মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেড় হচ্ছে না। ফলে নিম্ন আয়ের সাধারন মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। পরিবারের খাবার জোগাতে এসব মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকারী ভাবে কিছু পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেও তা ছিল খুবই কম।সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মোসা এ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলায় হতদরিদ্র প্রায় ৩শত পরিবারকে চাল, ডাল, তেল বিতরন করা চলছে।সরাইলের নয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে ৯শত পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। তিনি এ সময় আরো বলেন, হতদরিদ্র মাঝে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ চলবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর