• শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ
  • গাইবান্ধা ৩ আসনে উপ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ ২২ জাতীয় পার্টি -৩ বিএনপি ৩

গাইবান্ধা ৩ আসনে উপ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ ২২ জাতীয় পার্টি -৩ বিএনপি ৩

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ , ৩০ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ- এসে গেছে নির্বাচন পোস্টার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গাইবান্ধা ৩ আসনের সর্বত্র । উত্তরের জাতীয় পার্টির এক সময়ের দুর্গা হিসেবে খ্যাত গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর -পলাশবাড়ী) আসনে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফাটল ধরিয়ে দিয়ে লাগাতার দ্বিতীয়বার লক্ষে পৌছে বিপুল ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী সরকার দুই দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। গত বছর ২৭ ডিসেম্বর তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এ বছর মার্চের ২৭ তারিখের মধ্যে আসনটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীদিনে এ উপ নির্বাচন কে হবেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী চোখ কান সব সেই দিকে আসনটির সকল ভোটার সহ দেশবাসীর। দলের বর্তমান সময়ে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সমর্থকদের সংখ্যা শিবিরটিও বিশাল। তাই আগামী উপ নির্বাচনে দলটি নিজেদের দলীয় শক্তি ও সমর্থন আদায়ের পাল্লা ভাড়ির ধারাবাহিকতা রক্ষায় দলটির প্রধান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন বলে বিশ্বাস করেন সর্বসাধারণ ভোটারবৃন্দ । প্রয়াত ডাঃ মোঃ ইউনুস আলী সরকার এমপি তিনি শুধু দলীয় প্রার্থী নয় ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ জনতার মনজয় করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে এলাকার জনগনের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করে ছিলেন মৃত্যু আগ মহুর্তেও। তাই এলাকাবাসীর দাবি এই এলাকার দুঃখ-সুখে যে অংশীদার হবে তেমনি একজন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সর্ম্পূণ ব্যক্তির হাতেই যেন তুলে দেওয়া হয় নৌকার হাল।
দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জাতীয় সংসদের গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপনির্বাচনে তারিখ ঘোষণা না হলেও এলাকায় জনসমর্থনের লক্ষ্যে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দেড় ডজনের বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা কেন্দ্রের আশীর্বাদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। ইতোমধ্যেই তারা অনেকেই যোগাযোগ করতে শুরু করেছে কেন্দ্রে। উপনির্বাচনের ভোটের দিন শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ দেখেই মনস্থির করবেন সাধারণ ভোটাররা।

মার্কার অপেক্ষায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ও দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণার অপেক্ষায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সবার মুখে একটায় উক্তি কে হচ্ছে কাংক্ষিত নৌকার মাঝি।

এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- (১) দলটির দলীয় প্রধানের আস্থাভাজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক (এমপি) সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি। দলীয় মতভেদ ভুলে তিনি পলাশবাড়ী সাদুল্যাপুর উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীর পছন্দের প্রার্থী । তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

(২) জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের একাধিকবার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হক। বিগত ৯ ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি । তবে সে সময়ে মহাজোটগত নির্বাচনী সিদ্ধান্তের কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি। বতমান সময়ে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।। তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

(৩) প্রয়াত এমপি ইউনুস আলী সরকারের বড় ছেলে ড. ফয়সাল ইউনুস। সে রাজনীতি নেই বললেই চলে । কখনো রাজনীতিতে কোন পদে ছিলেন না বলে প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায়। তবে পিতার রাজনৈতিক ইচ্ছা আখাংঙ্খা খুব ভাবে অনভব করতে পেরেছেন মুজিব আর্দশের মানুষ ড. ফয়সাল ইউনুস।। তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাকে নিয়ে পিতা প্রয়াত ডাঃ ইউনুস আলী সরকারের অনুসারীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চয় হয়েছে।

(৪) দীর্ঘ সময় ধরে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বিভিন্ন সময়ে হামলা মামলার শিকার নির্যাতিত জননেতা আবু বক্কর প্রধান। তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

(৫) জেলা আওয়ামীলীগের ১৩ বছরে উপ প্রচার সম্পাদক ও বর্তমানে প্রচার সম্পাদক এ্যাড. জরিদুল হক । তিনি ছাত্রজীবন হতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দলীয় কর্মকান্ডে জড়িত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব । পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও হরিনাথপুর ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি । তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন  প্রত্যাশী।

(৬)পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে আওয়ামীলীগের উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে তুলে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিকারী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক নেতা সাদুল্যাাপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দড়িজামালপুর রোকেয়া সামাদ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজিজার রহমান বিএসসি।। তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন  প্রত্যাশী।

(৭) বীরমুক্তিযোদ্ধা, ও শিল্পপতি মেজর মফিজুল ইসলাম। তিনি দুই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব । তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন  প্রত্যাশী।

(৮)ঢাকা সোহওয়ার্দী হাসপাতাল এর সাবেক পরিচালক ও গাইবান্ধা বঙ্গবন্ধু জেলা পরিষদের উপদেষ্টা ডা. শাহ মো. ইয়াকুব উল আজাদ । তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

(৯)সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ এম এস রহমান। তিনি উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

আরো যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা হলেন,পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন সরকার। সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ ওয়াহেদ মিয়া। সাদুল্লাপুর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও গাইবান্ধার শ্রেষ্ঠ জয়িতা রেহেনা বেগম । পলাশবাড়ীর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি, বেতকাপা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফজলুল করিম। গাইবান্ধা জেলা আওয়াামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাজেদার রহমান দুলু। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান। পলাশবাড়ীর মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল। উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড.নরুল ইসলাম। পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খন্দকার তামান্না শারমিন, সদস্য ও এশিয়ান ইউনিভাসির্টি প্রফেসার ডা.মাহবুব আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি গোপাল চন্দ্র বর্মণ।

আসনটির বর্তমান দুই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তারাও উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।তারা হলো পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। অপরজন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাদুল্লাপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়ার খাঁন বিপ্লব। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকার স্হানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বাহিরে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে সবাই কেন্দ্রে আর্শীবাদ পাওয়ার লক্ষ্যে কয়েকজন প্রার্থী এলাকায় পোষ্টার, ব্যানার, ফেসটুন বিভিন্ন দৃশ্যমান জায়গায় লাগিয়েছেন এবং উপনির্বাচনে জনগনের সমর্থন দোয়া কামনা করছেন।

অপরদিকে এ আসনের চিরজয়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দল জাতীয় পার্টি তাদের উত্তরাধীকারি হিসাবে নিজেদের ঐতিহ্য ধারাবাহিকতা রক্ষায় মরিয়া। উপ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন প্রত্যাশী  প্রয়াত সাবেক এমপি ড.টি আইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর ছেলে মঈনুর রাব্বী চৌধুরী রোমান, দলটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী,এ্যাড.মমতাজ উদ্দিন।

বিশ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দল গুলো হতে তেমন কোন প্রার্থী না থাকায় জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন জন। তারা হলেন বর্তমান গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা.মইনুল হাসান সাদিক। তিনি দীর্ঘ দিন হলো অত্র এলাকায় জোড়ালোভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক জনসেবা মুলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটি মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর দুজন হলে ঢাকায় বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ড.মাসুদ ও রফিকুল ইসলাম রফিক।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর