গাইবান্ধায় কোয়ারেন্টাইনে ২২৫ ॥ নতুন ২ জনসহ আক্রান্ত ৪ ॥ বাড়ি ফিরেছে ১৩ জন

প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ , ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের উপর কড়া নজরদাড়ি রাখা হচ্ছে। আগত ২২৫ জন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন ২ জনসহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ৪ জনকে সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেসন ইউনিটে রাখা হয়েছে। এছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে সুন্দরগঞ্জে ৫৮, গোব্দিগঞ্জে ৫১, সদরে ৪২, ফুলছড়িতে ১০, সাঘাটায় ১৪, পলাশবাড়িতে ১৪, সাদুল্যাপুর উপজেলায় ২৭ জন।

জেলার শহর গুলোর সর্বত্র বিরাজ করছে জনশূন্যতা তবে কিছু অসচেতন মানুষ তারা উৎসুক জনতার সারিতে দাড়িয়ে চেয়ে থাকে পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী দেখার অপেক্ষায় থাকে । জেলার গ্রাম অঞ্চল গুলোতে করোনা সর্তকতার ছোয়া লাগেনি তারা এখনো বোঝেনি করোনা ভাইরাস কি। এ হতে উত্তরণের উপায় কি । তারা এখনো অপেক্ষা আমাদের গ্রামে আসবে কবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কেমন হবে তার আকার আকৃতি কেমন হবে তা যদি দেখা যে এ অপেক্ষায় ।

এদিকে গাইবান্ধায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্তকৃত ৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর তাদেরকে হাসপাতালের আইসোলেসন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, এদের মধ্যে আমেরিকা থেকে আসা একজন নারী ও তার সন্তান এবং আমেরিকা প্রবাসী নারীর সংস্পর্শে আসা গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুর নিবাসী তার আপন বোনসহ ৩ জনকে প্রথমে গাইবান্ধা শহরের খাপাড়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ায় সেখান থেকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেসন ইউনিটে রাখা হয়। এছাড়া ওই আমেরিকা প্রবাসীর নারীর সংস্পর্শে আসার কারণে বিয়ের কনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং পরীক্ষা নিরীক্ষায় পজেটিভ প্রমাণিত হওয়ায় সদর উপজেলার নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর তাকেও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরের আইসোলেসন ইউনিটে রাখা হয়েছে। এছাড়া বগুড়ার ৯ জন সাদুল্যাপুর উপজেলায় বিয়ে বাড়িতে আসায় তাদেরকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে বগুড়ার হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কোন চিহ্ন না পাওয়ায় ১৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ২২৫ জন।

সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদেশ ফেরত ২২৫ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারা যাতে নিয়মের বাইরে না চলে সেজন্য তাদের উপর কড়া নজরদাড়ি রাখা হচ্ছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে এক প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় জেলার প্রস্তুতি হিসেবে ৭টি সরকারি হাসপাতালে মোট ৪শ’ ৮১টি বেড রয়েছে। এরমধ্যে প্রস্ততকৃত বেডের সংখ্যা ৩৫টি। এছাড়া জেলায় মোট ১শ ২৬ জন ও ১শ’ ৯০ জন নার্স রয়েছে। চিকিৎসকদের জন্য ৮শ’ ৫৮টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) মজুদ রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮টি বিতরণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্তে ১টি এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে ও চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরী বিভাগে আইসোলেসনের ব্যবস্থা রয়েছে। অপরদিকে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার সর্বত্র মাইকিং করা হচ্ছে। গণ জমায়েত পরিহার ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে জেলায় টহল প্রদান করা হচ্ছে। জেলায় সরকারি সহায়তা হিসেবে ১শ’ মে. টন চাল ও ৭ লাখ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১শ’ মে. টন চাল ও ৫ লাখ টাকা উপজেলা পর্যায়ে উপ-বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম করা হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুতের পর প্রত্যেক পরিবারে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে প্যাকেট প্রস্তুত করে সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর