• লিড নিউজ সারাদেশ
  • কুমিল্লার মুরাদনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ১৯ দিনের শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে মা কারাগারে

কুমিল্লার মুরাদনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ১৯ দিনের শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে মা কারাগারে

প্রকাশিত: ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ , ১৫ আগস্ট ২০২১, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে

এম কে আই জাবেদ,কুমিল্লা :

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার টনকি ইউনিয়নের বাইড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৯ দিন বয়সী কন্যা শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে স্বয়ং শিশুটির মা রহিমা আক্তার রত্না(২০) স্বীকার করায় তাকে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। বাইড়া গ্রামের একটি খাল থেকে শুক্রবার বিকেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা রহিমা আক্তার রত্নাকে গ্রেফতার করে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বাংগরা বাজার থানা পুলিশ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাংগরা বাজার থানাধীন বাইড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে প্রবাসী মজিবুর রহমানের সাথে বিগত এক বছর আগে বিয়ে হয় রাহিমা আক্তার রত্নার (২০)। বিয়ের ৬ মাস পর মুজিবুর প্রবাসে চলে যায়। স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় রাহিমা স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করছিলো। গত ২৫ জুলাই ২০২১ একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন রত্না। শিশুটির নাম রাখা হয় রাবেয়া বশরী।

সূত্র জানাযায়, রহিমা কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় তার শ্বশুর-শাশুড়ী তাকে মানসিক নির্যাতন করত। এদিকে সাংসারে আর্থিক অনটনের কারনেও মানসিক ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হতেন। পারিবারিক কলহ সহ্য করতে না পেরে গত ১২ আগস্ট ২০২১ সকাল ১০টার দিকে রহিমার শ্বশুর- শ্বাশুড়ি-দেবর বাড়ীর পাশে জমিতে কৃষি কাজে গেলে এই সুযোগে রাহিমা তার ১৯ দিনের শিশু কন্যা শিশুকে বাড়ীর পাশের খালের পানিতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে রাহিমার শ্বশুরি জমি থেকে ফিরে তার নাতনীকে না পেয়ে এলাকায় খোঁজাখুজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমানের নেতৃত্বে বাংগরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার, সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ শাহনেওয়াজ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ শিশুটির মা রাহিমা আক্তার রত্না, দাদী রহিমা, দাদা বাচ্চু মিয়া, ননদ হালিমাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে ঘটনাস্থলের পাশের খালে জাল ফেলে তল্লাশি চালিয়ে মৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় শিশুটিন মা রাহিমা আক্তার রত্না পারিবারিক অশান্তির কারনে তিনি নিজে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। সে জানায় যে, শিশুটি জন্মের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন মানসিক অত্যাচার, শুশুর শাশুড়ির নানান কথাবার্তা ও আর্থিক দৈন্যতার কারণে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে শিশুটিকে খালে ফেলেদেন।

বাংগরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এঘটনায় এ ঘটনায় নিহতের দাদা বাদী হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামী অভিযুক্ত ঘাতক মা রহিমা আক্তার রত্নাকে গ্রেফতার করে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।