এ যুদ্ধে অদৃশ্য শক্তির কাছে মানুষ পরাভূত ও পরাজিত। বিপন্ন পরিবেশঃবিপন্ন মানবতা

প্রকাশিত: ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ , ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
ফাইল ছবি: সরাইল- আশুগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ এডঃ জিয়াউল হক মৃধা।

মোঃ তাসলিম উদ্দিনঃ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে এডঃ জিয়াউল হক মৃধার স্ট্যাটাস। সমসাময়িক নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। ৪ এপ্রিল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সরাইল- আশুগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ এডঃ জিয়াউল হক মৃধা।

কালের বির্বতন এর পাঠকদের জন্য তাঁর সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল। মানব সভ্যতা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে চলছে। ক’দিন আগে ফেইসবুকে একটা পোস্ট বলেছিলাম তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে,আসলে যুদ্ধটা চলমান।এ যুদ্ধে অদৃশ্য শক্তির কাছে মানুষ পরাভূত ও পরাজিত।প্রকৃতি আজ মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিচ্ছে মানুষের কৃতকর্মের প্রতিশোধ। মহান স্রষ্টার সৃষ্টি কর্ম অত্যন্ত নিখুঁত ।

অপ্রয়োজনে তিনি কোন কিছুই সৃষ্টিকরেননি।পাহাড় সাগর, গ্রহ-নক্ষত্র, নদী-নালা, বন-বনানী, আগ্নেয়গিরি তথা সমস্ত সৃষ্টি আল্লার মহাপরিকল্পনার অংশ এবং প্রতিটি সৃষ্টি প্রকৃতির ভার সাম্য রক্ষা করে চলছে যেমন মহাকোরানের ভাষায় পাহাড় পর্বত হচ্ছে পৃথিবীর পেরেক।পেরেক দিয়ে বিচ্ছিন্ন জিনিস আটকানো যায় পৃথিবীকে ও পাহাড় পর্বতের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করে চলেছেন আল্লাহ। সবুজ বন-বনানী পৃথিবীকে সরবরাহ করে অক্সিজেন দাব-দাহ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে মেঘ মালার সৃষ্টি করে ঘটায় বৃষ্টি পাত কোরানের ভাষায় বৃষ্টি পাত মৃত জমিনকে উর্বর করে তোলে ফুলে ফলে ফসলে ফসলে ভরে যায় ধরিত্রি।

সমুদ্রের অপরনাম রত্নাকর সমুদ্র তার বুকে ধারন করে আছে মনি-মুক্তা।নদ-নদী আমাদের যোগাযোগকে করেছে সহজ জোগাচ্ছে প্রানীজ প্রোটিন।এক কথায় আল্লাহর সৃষ্টি সমস্ত প্রকৃতিই মানুষের কল্যানে কিন্তু আমরা মানুষ আমরা প্রকৃতির ওপর চালিয়েছি সীমাহীন অত্যাচার আবিষ্কারের নামে সভ্যতার নামে। আমরা পাহাড় কেটে সমভূমি বানিয়ে গড়ে তুলেছি স্থাপনা,বানাচ্ছি ফসলি জমি,উপকূল ভরাট করে তৈরী করেছি বিলাস বহুল অট্টালিকা,নগরবন্দর।

গভীর অরণ্য ধ্বংস করে বনভূমি উজাড় করে চলেছি। মানবতা বিধ্বংসী অস্ত্রসস্ত্র তৈরী করে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ধ্বংস করতে গিয়ে সমুদ্রের তলদেশ ঝাঝড়া করে ফেলেছি ভুগর্ভে ঢুকিয়ে দিয়েছি তেজস্ক্রিয় ক্ষতিকারক রসায়ন এবং আরো কত কিছু এর ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে গেছে,সমুদ্রের তলদেশ দিনদিন উঁচু হয়ে যাচ্ছে,পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী ওজনস্তর ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।ফলশ্রুতিতে বন্যা, জলোচ্ছাস, ঝড়-ঝন্জ্ঞা, ভূমিকম্প এখন মানুষের নিত্য সাথী হয়ে গেছে।আর প্রকৃতির ভারসাম্য হীনতার কারণেই এবং পরিবেশের ভারহীনতার কারনেই আমাদের তছনছ করা প্রকৃতি থেকে জন্ম নিচ্ছে নানা প্রকার রোগজীবাণু। করোনা ভাইরাস বা কোভিক-১৯ এমনি জীবাণু পুঞ্জ স্তব্ধ করে দিয়েছে পৃথিবীর গতি।সারা পৃথিবী ব্যাপী কলকারখানা বন্ধ অর্থাৎ উৎপাদন বন্ধ।সমস্ত বিশ্ববাসী আজ গৃহবন্দী প্রকৃতির অদৃশ্য অস্ত্র ভাইরাসের ভয়ে।এই অবস্থা চলতে থাকলে শুরু হবে বিশ্ব মন্দা ও দুর্ভিক্ষ।

সারা পৃথিবী ব্যাপী চলছে অঘোষিত কারফিউ।প্রকৃতির এই যুদ্ধ থেকে একথাটা আমাদের কাছে অতীব সত্য ও স্পষ্ট যে, যেকোন সময় মানবসভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে মানবজাতি প্রকৃতির রুদ্ররোষে স্রষ্টার ইচ্ছায়।আমাদের বিজ্ঞান আমাদের আবিষ্কার কোন কাজেই আসবেনা। পরাশক্তির পারমানবিক অস্ত্র,বোমারুবিমান,সাবমেরিন ক্ষমতাহীন অকেজো হয়ে পড়ে থাকবে।তাই বলছি পৃথিবীর সম্পদ বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ ব্যয় করে মানববিধ্বংসী অস্ত্র তৈরী করে কি লাভ যা একটা জীবাণুধ্বংসে ও অক্ষম। এবারের যুদ্ধ থেকে মানবজাতি মুক্তি পেলে মানুষ কেন বানাতে যাবে মারনাস্ত্র? মানবজাতিকে নতুন করে ভাবতে হবে মানুষ কি তার অস্তিত্বের জন্য নতুন করে চিন্তা করবে না পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব নিজেরাই বিপন্ন করে তুলবে নিজেদের কর্মের খেসারত দিতে গিয়ে।যাক এবার আমি বাংলাদেশ প্রসংগে আসি।আমি বিভিন্ন বক্তৃতায় বলতাম বাংলাদেশ হচ্ছে মানুষের বীজতলা এখান থেকে চারা উঠিয়ে নিয়ে আবাদ হচ্ছে গোটা দুনিয়া।

এই ঘনবসতি পূর্ন দেশে যদি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটে তাহলে চাপাবাজদের বুলি হাওয়ায় মিশিয়ে যাবে।লাশের মিছিলে মিছিলে ভরে যাবে দেশটা। আমার মনে হয় আমরা কষ্ট সহিষ্ণু জাতি। আমাদের আবহাওয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে ভিন্নতর।তাছাড়া এ দেশের মাটির সাথে মিশে আছে অসংখ্য আওলিয়া, দরবেশ,পীর-ফকির,সাধক-সিদ্ধ পুরুষ তদুপরি আক্রান্ত দেশগুলোর মত আমরা প্রকৃতিকে অতটা ক্ষত বিক্ষত করিনি সীমালঙ্ঘন করিনি।উন্নত বিশ্বে সভ্যতার নামে চলছে নগ্নতা অশ্লীলতা। তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে আশাবাদী যে,মানবতার এই মহাদুর্যোগ থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন এবং বিশ্ব মানবমন্ডলীকে ও তিনি পরিত্রান দিবেন ভবিষ্যতে সাবধান হওয়ার জন্য।

-জিয়াউল হক মৃধা

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর