এই শীতে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ভরসা শহরের ফুটপাত

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ , ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
শীতে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানে গরম কাপড়ের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছেন হকারেরা। আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের তন্তর বাসস্ট্যান্ড রাস্তা সংলগ্ন খন্দকার মার্কেটের প্রধান ফটকের (ফুটপাত) সামনে থেকে ছবিটি তোলা। ছবি : জহির রায়হান

জহির রায়হান : শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে গোটা দেশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও তীব্র শীত। কর্মজীবী, শ্রমজীবীসহ শহর, গ্রাম-গঞ্জের মানুষ হাড়কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়ছে। শীত থেকে বাঁচতে মানুষজন ফুটপাতের দিকে ছুটছে গরম কাপড়ের খোঁজে।

শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতের আগমনে জেলা শহরের কুমারশীল মোড়, কোর্ট রোড, মসজিদ রোড, কাউতলি ও পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন উপজেলার আশপাশে জমে উঠেছে পুরনো শীতের কাপড়ের অস্থায়ী বাজার।

হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের শীতের কাপড়ের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছরের মতো এবারও অস্থায়ীভাবে এসব জায়গায় বসেছে একাধিক দোকান। এখান থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা যে যার সাধ্যমতো কিনে নিচ্ছেন শীতের কাপড়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবছর শীতের শুরুতেই খেটে খাওয়া মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায় পুরাতন শীতবস্ত্রের এসব বাজার। মূলত কম দামে শীতবস্ত্র পাওয়ার আশায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা ভিড় করেন এখানে। কিন্তু পুরনো শীতবস্ত্রের বাজার জমে উঠলেও গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। আবার অনেক বিক্রতারা ১০ টাকায়ও গরম কাপড় বিক্রি করছেন এখানে।

শীতের কাপড় কিনতে আসা শহরের ভাদুঘর এলাকার কামাল হোসেন জানান, কম দামে শীতের কাপড় পাওয়ার আশায় এখানে আসা। তবে এ বছর দাম একটু বেশিই মনে হয়। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় বাচ্চাদের জন্য ১২০ টাকা হারে চারটি শীতের কাপড় কিনেছি।

অপর ক্রেতা জব্বার মিয়া জানান, কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায় বলে এখান থেকে ক্রয় করি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার শীতের কাপড় প্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফুটপাতে বসা পুরনো কাপড় বিক্রেতা মানিক মিয়া, খোকন মিয়া, করিম মিয়াসহ আরো বেশ কয়েকজন জানান, আমরা সাধারণত সোয়েটার, ট্র্যাকসুট, বিভিন্ন ধরনের গরম জামা, মোজা, টুপি, বাচ্চাদের কাপড়, জ্যাকেট, প্যান্ট-কোট, চাদর, কম্বল, ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড় বিক্রি করি। শীত আসলেই বাড়তি আয়ের জন্য আমরা ফুটপাতে বসি। এবার পুরাতন কাপড়ের বান্ডিলের দাম একটু বেশি বলে খুচরা বিক্রিতে ক্রেতাদেরও কিছুটা দাম বেশি গুনতে হচ্ছে। তবে সেটি অতি নগণ্য।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর