১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যা

ইতিহাসে ঘৃণ্যতম ভয়ানক কালরাত আজ

প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ , ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
ছবিসূত্রঃ বিবিসি, লেখকঃ মেহেদী হাসান মুকুট

আজ ভয়ানক সেই  কালরাত। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দেওয়া হয়েছিল ’আপারেশন সার্চ লাইট’। সেই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ এদেশের বড় শহরগুলোতে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে কমপক্ষে প্রায় ৫০ হাজার ঘুমন্ত বাঙালিকে পাশবিকভাবে হত্যা করে। ২৫ মার্চের গণহত্যার দিনটি ২০১৭ সাল থেকে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেইসঙ্গে দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবেও ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের দাবিও এখন অবদি অব্যাহত রয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতে দেশের সকল রেডিও স্টেশন পাকিস্তানি সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। চট্টগ্রামের কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতার উদ্যোগে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র হতে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরিত করে চট্টগ্রামের কালুরঘাট প্রেরণ করা হয় এবং গড়ে তোলা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

পঁচিশ মার্চের গণহত্যার নীলনকশা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মেতে উঠেছিল অসহায় বাঙালি হত্যাযজ্ঞে। অন্যদিকে এই পাশবিকতা ও নির্মমতার বিরুদ্ধে অদম্য সাহসী বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত।

পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বন্দী হবার পূর্বে মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং এই ঘোষণা ওয়ারল্যাস যোগে চট্টগ্রামে প্রেরণ করেন। পরের দিন বিবিসির প্রভাতি অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি প্রচার করা হয়।

তখন থেকে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। মা বোনের ইজ্জত রক্ষার এ লড়ায় ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে ৯ মাস। দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নব অভ্যুদয় ঘটে।

মন্তব্য লিখুন