ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুল শিক্ষিকা দিয়া হত্যা মামলার আসামী

আলোচিত সমালোচিত ডা: ডিউক চৌধুরীসহ তিনজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ , ২ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুল শিক্ষিকা দিয়া হত্যা মামলার আসামী আলোচিত সমালোচিত ডা: ডিউক চৌধুরীসহ তিনজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শফিউল আজম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডা: ডিউক চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুন্সেফপাড়ার খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক। অপর আসামীরা হলেন অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল। তারা সবাই খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসক।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত জানান, সকালে ওই তিন চিকিৎসকের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে আদালত তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এতে খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে পরিচালক ডা. ডিউক চৌধুরী ছাড়া কারগারে গেছেন দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল অভি ও শাহাদাত হোসেন রাসেল।

তাদের ‘ভুল চিকিৎসায়’ মুন্সেফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা নওশিন আহমেদ দিয়ার মারা গেছেন অভিযোগ এনে মৃতের বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু গত ১৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্কুল শিক্ষিকা নওশিন গত ৩০ অক্টোবর প্রসব বেদনা নিয়ে ডা. ডিউক চৌধুরীর মালিকানাধীন খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই দিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
৪ নভেম্বর ভোরে দিয়ার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে আবারও খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। তখন ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ‘ভুল ইনজেকশন ও ওষুধ’ প্রয়োগ করার পর দিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এমন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা আগেই দিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

এর আগে হাইকোর্ট থেকে নেওয়া চার সপ্তাহের জামিন শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ডা. ডিউক, ডা. অভি ও ডা. রাসেল। তখন অবকাশকালীন বিচারক মো. হাসানুল ইসলাম মামলাটি অধিকতর শুনানির জন্য পহেলা জানুয়ারি দিন ধার্য্য করেছিলেন।