অরুয়াইলে ২০০ কোটি টাকা’র জায়গা বে-দখল! দখলদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চিঠি

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ , ১৮ মে ২০২৪, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মোঃ তাসলিম উদ্দিন, সরাইলঃ অরুয়াইলে নদী দখলের রাজত্বের অবসান হবে এমন কথা শোনা যাচ্ছে আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে। আদান প্রদান হচ্ছে সংশ্লিষ্ট অফিসের চিঠি। গণমাধ্যম কর্মীরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারে। নদী দখল করে যারা সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট করেছে তাদের নামে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।নদীর জায়গা গড়ে ওঠা দোকানপাট স্থাপনা।

নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তা।সরাইল উপজেলা অরুয়াইল বাজারের চার দিকে নদী প্রবাহিত।

এ বাজার ঘিরে রয়েছে সরকারি জায়গা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সরকারি জায়গায় বিভিন্ন দোকানে(লাল চিহ্ন) দিলেও কোন অভিযান পরিচালনা হয়নি আজ পর্যন্ত। গত কয়েক মাস আগে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবা উল আলম ভূইঁয়া অরুয়াইল বাজারের মাটির নিচে চাপা পড়া দখলকৃত ঘাটলা টি উদ্ধার করেছেন। এদিকে অরুয়াইল বাজারের সকল দখলকৃত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়াও অরুয়াইল বাজারে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য একাধিকবার সরাইল উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় সদস্যরা দাবী জানিয়ে আসছেন।সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইঁয়ার এক বক্তব্যে তিনি দাবী করেন।

অরুয়াইল বাজারে ২০০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বে-দখল হয়ে আছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া দাবী করে বলেন, অরুয়াইল বাজারে দখলের রাজত্ব চলছে। গতকাল সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে দেখা হলে চেয়ারম্যান হাসি দিয়ে বলেন,ভাই দখলের বিরুদ্ধে অনেক রিপোর্ট করেছেন। তবে এবার মনে হয় অরুয়াইল বাজারের সরকারি সম্পত্তি উদ্বার হবে।

এবার যে চিঠি আসছে রক্ষা নাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিশন থাকলেও নদী দখল তো কমেইনি বরং আইন লঙ্ঘন করে দখলদারদের সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতে, সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে নদী রক্ষা করা যাবে না। এজন্য আইন কার্যকর করতে হবে। কারণ উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদী দখল দূষণ না কমে উল্টো বেড়েছে।

তাই আদালতের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া নদী রক্ষা অসম্ভব। বতর্মান মানে অরুয়াইল তিতাস নদীর দুই পারে সমান দখল দারদের রাজত্ব চলছে। অরুয়াইল ঘুরে জানা যায়, অরুয়াইলে নদীসহ দখল হুয়া সরকারি জায়গা উদ্ধারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লিখিত ভাবে পদক্ষেপ নিলেও তা কোনো কার্যকর হয়নি আজও পর্যন্ত।

এখন সরকারি জায়গা উদ্ধার না হয়ে নতুন করে নদীর জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্টানে দোকান মার্কেট তৈরির কাজ চলছে। এদিকে তথ্য সুত্রে জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নং ১৮,২০,০০০০ ,০১৮ ,০৬,০০১,১৫,(২৪) অং-১-১১০৭। বিষয়: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন সরাইল উপজেলা অরুয়াইল বাজার সংলগ্ন তিতাস নদী এবং সংযুক্ত খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দুষণরোধ কল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ কারী আবু বকর সিদ্দিকের সাথে কথা হলে তিনি হাতে একটি নদী কমিশনের চিঠি দেখিয়ে বলেন, ২০২১ সালে আমিসহ অরুয়াইলের কয়েক জন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে আবেদন করলে কমিশনের সচিব অরুয়াইল বাজারে তিতাস নদী ও খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলে।

সরাইল উপজেলা প্রশাসনের কয়েক জন এসে দেখে গেছে অনেক দিন আগে আজ পযর্ন্ত কোন ব্যবস্হা নিতে কেউ আসেনি।তিনি বলেন,আইন’তো আছে কাগজে !

বাস্তবায়ন নাই মাঠে ‘ আছে আরো দখল?এমন করে দখল করতেছে আমরা দোকান থেকে বের হতে পারি না।বাবার পরে এখন ছেলেরা ব্রীজ থেকে শুরু ঘাটলা পযর্ন্ত বিল্ডিং করে দখল করছে। আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইউনিয়ন নায়েব এসে দেখে যান। যারা দখল করছে তাদের সাথে মিলেমিশে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তা দেখলে জানতে পারবেন নদীর পার কেমন দখল হচ্ছে আর নায়েব সাহেব কি লেখেছে। তারা হলো এলাকার প্রভাবশালী তিনি বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় ছাড়া আর কিইবা করার আছে-?এখন আর কি করবো অপেক্ষায় দিন গুনছি প্রশাসনিক কি ব্যবস্হা গ্রহন করে।

আমি নদী কমিশনের কাগজ জমে দিয়েছি।বিগত দিনে অরুয়াইল নদী দখলের চিত্র তুলে ধরা হলো। সরাইল অরুয়াইল নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও তৈরি স্থাপনার চিত্র বিভিন্ন মিডিয়ায় সচিত্র প্রতিবেদনে। বিস্তর লেখালেখি হয় বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গায় দোকান মার্কেট করা অবৈধ প্রতিষ্ঠানে (লাল× চিহ্ন)দেন তৎকালীন সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফারজানা প্রিয়াঙ্কা। অরুয়াইল বাজারের অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হলেও আজ ওপর্যন্ত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

বাজারে গেলে মহিলা মার্কেট, ফেরি দোকান ও অরুয়াইল বাজারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন করা ঘাটলা দখলদারা দহল তবিয়তে আছে। এখন আবার দখল করছে ব্রীজ এলাকায়। যার ছবি দেওয়া আছে। অরুয়াইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি আওয়ামীলীগ সভাপতি আবু তালেব মিয়া বলেন,অরুয়াইল তিতাস নদী ও বাজার দখলের বিষয়ে উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় একাধিক বার আলোচনা হয়েছে।

অনেক দিন আগেএসিল্যান্ড ম্যাডাম বাজারে অবৈধ দোকানে লাল চিহ্ন দিয়ে গিয়েছিল। তার পর ও আজও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কিছু হয়নি। তিনি বলেন, এখন শুনতেছি নদীর পাড় যারা দখল করেছে তাদের নামে চিঠি এসেছে। নদীর পাড় কেমন দল হয়েছে জানতে চাইলে আবু তালেব মিয়া বলেন,বাজারে ভিতরে ও নদীর পাড়ে১০-১৫ ফুট করে সরকারি জায়গা দখল করে অনেকেই দোকান পাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে।তিনি বলেন,আমরা বললে আরোও দোষী হয়।

এখন তো ব্রিজ থেকে শুরু হয়েছে দখলের রাজত্ব। কিছুদিন আগে উদ্ধার হওয়া ঘাটলাটি এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইঁয়া এ প্রতিনিধিকে বলেন, অরুয়াইল ব্রিজের কাছেও নদীর জায়গা দখল করে ভরাট করা হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের সামনে এসব দখল হলেও কোন কর্ণপাত লক্ষ্য করা যায়নি। চেয়ারম্যান বলেন, দখলদারের সাথে কোন প্রকার আঁতাত না করে।

সরকারি জায়গা উদ্ধার করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,দেশকে রক্ষা করতে হলে নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। এ বাস্তবায়ন করতে হলে অরুয়াইলে নদীর পাড়ের সকল দখলদারদের দখল অবসান করতে হবে।

তা হলে ভাটি এলাকার এক মাত্র সু- প্রসিদ্ধ অরুয়াইল বাজার সুষ্ঠভাবে ব্যবসা বানিজ্য করার স্বার্থে ও এলাকার মানুষের শান্তিতে বসবাস করতে তিতাস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রেখে নদী, বাজার রক্ষা করতে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উদ্ধার অভিযান ” এ দাবী শুধু আমার না “এলাকার মানুষের দাবি।এ নিয়ে বারবার প্রতিবেদন সরকারি সংশ্লিষ্ট অফিসে দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, এবার দেখা যাক কি হয়, সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন সুলতানা বলেন, অরুয়াইল বাজারে সরকারি সম্পত্তি যারা দখল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দখলদারের নিকট উচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়েছি। কোনভাবে সরকারি জায়গায় দখল করতে পারবে না।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.মেজবা উল আলম ভূইঁয়া এ প্রতিনিধিকে বলেন, অরুয়াইল বাজারে সরকারি সম্পত্তিতে তুলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারি সম্পত্তি কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণের নির্দেশে দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি প্রক্রিয়ার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখল রাখতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।এ থেকে কোন দখলদার রক্ষা পাবে না।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর