অরুয়াইল বাজারের সরকারি ঘাটলাও দখলে! এসব দেখার কেউ নেই?

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ , ৭ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে

মোঃ তাসলিম উদ্দিন সরাইল প্রতিনিধিঃ ভূমিদস্যুদের চোখ পড়েছে সরকারি এ ঘাটলাটিতে। সরাইল অরুয়াইল বাজারে দখলদারা কৌশলে, ধীরে ধীরে সরকারি ঘাটলাটিকে কবর দেওয়ার আয়োজন করছেন। শোনা যাচ্ছে দশ বছর আগে বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুবিধার্থে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নদীর পারে একটি ঘাটলা নির্মাণ করা হয়। নদীপথে নৌকা বা জাহাজ থেকে মাল উঠানামা করতে সরকারি ঘাটলা তৈয়ারী করা হয়েছে। সরকারি ঘাটলা হওয়ার পরও গোপনে বেচাকেনা করে দখল করেছে ঘাটলার জায়গা। এসব যেন দেখার কেউ নেই।অরুয়াইল বাজারের পুর্ব পাশে নদীর পাড়ে সরকারি এই ঘাটলাটি বালু ফেলে দোকান করে,ময়লা আবর্জনা ফেলে এবং স্থাপনা নির্মাণ করে এখন ‘বাকী টুকু’বাঁশ দিয়ে দখল করছেন স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। উপজেলা অরুয়াইল বাজারের সরকারি ঘাটলার বর্তমান চিত্র এটি। গতকাল সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে, প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন মুখ খুলতেই চাননি প্রথমে। পরে ব্যবসায়ীদের তথ্যের মতে দেখা যায়,উপজেলার তিতাস-মেঘনা নদীতীরে গুরুত্বপূর্ণ অরুয়াইল বাজারের সরকারি ঘাটলাটি দখল করে দোকান করে দখলে দহল তবিয়তে রয়েছেন। দখল নিয়ে চলছে এলাকায় মুখরোচক আলোচনা। প্রভাবশালীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে ঘাটলায় বাঁশ ফেলে শেষ জায়গা দখল করেছে। আগেই ঘাটলার উপরে নির্মাণ করে হয়েছে স্থাপনা। ময়লা আবর্জনায় ভরাট হওয়ার ফলে ঘাটলাটি এখন আর ব্যবহার করতে পারছেন না নিরহ ব্যবসায়ীরা। এতে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।তাই সরকারি ঘাটলাটি দখলদারদের হাত থেক উদ্ধারের দাবি করেছেন স্হানীয় চেয়ারম্যান, বাজার কমিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ।

ঘাটলা দখলে (৭০) বছরের রমজান আলী বলেনঃ সরকারের দেওয়া জনগণের ঘাটলা দখলে’কবর’হয়ে
গেছে। ময়লা আবর্জনা’ এখন বাঁশ’ ফেলে ঘাটলা-নদী দখল নিতে ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া।
অরুয়াইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায় জি এম কাপতান মিয়া বলেন, বিশ্বব্যাংক থেকে বাজারের ব্যবসায়ীদের নৌপথে মালামাল উঠানামা করার সুবিধার্থে সরকার ঘাটলা নির্মাণ করে দিয়েছেন। আজ ভূমিদস্যুরা চোখের সামনে দখল করে নিয়ে যাচ্ছে একেরপর এসরকারি স্থাপনা।সাংবাদিকরা রিপোর্ট করলে কি হবে-? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খবর নাই।

উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাজারের ব্যবসায়ী জাবেদ আল হাসান বলেন, সরাইল উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই বাজারে মালামাল আনা নেওয়া করা হয়। নৌকা বা জাহাজ থেকে মাল উঠানামায় একমাত্র এই সরকারি ঘাটলা দিয়ে। ঘাটলা বেদখল হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির শেষ নেই। ব্যবসায়ী এবং জনগণের সুবিধার্থে সরকারি ঘাটলাটি উদ্ধারের দাবি জানাই।
অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডঃ মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, নৌপথে অরুয়াইল বাজারের একমাত্র করিডর বা সরকারি ঘাটলাটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটেরা দখল করে নিয়েছে। আমি অরুয়াইল বাজারের পক্ষ থেকে বাজারের সরকারি ঘাটলাটি এলাকার জনস্বার্থে পূর্ণ উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি কর্তৃপক্ষের কাছে।

অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান ও অরুয়াইল বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূইঁয়া বলেন, নৌপথে নৌকা বা জাহাজ থেকে মালামাল লোড-আনলোড করার জন্য বাজারের বৃহৎ স্বার্থে বিশ্বব্যাংক প্রায়( ৫৬) লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি ঘাটলা নির্মাণ করেছিল।অরুয়াল বাজারের ভূমিদস্যুদের দখল থেকে রক্ষা পায়নি সরকারি এ ঘাটলাটি।আপনারা জানেন, প্রশাসনের আশ্বাসে পাবলিক টয়লেট উদ্ধার করেছি। আমি জানি আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার অত্যন্ত সুদক্ষ অফিসার, ইউএনও স্যারসহ এ দুজন উদ্যোগ নিলে ঘাটলা টি উদ্ধারে সক্ষম হবে। তিনি এ সময় আরো বলেন,ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় বড় বড় বিল্ডিং যদি ভেঙ্গে দিতে পারে। অরুয়াইল বাজারের ঘাটলা না শুধু ভূমিদস্যুদের দখলে সরকারি খাস জায়গায়, সরকারি সম্পত্তি লীজএনে ফিরি ফিরিসহ সকলকিছু উচ্ছেদ করার দাবী শুধু আমার না, এলাকাবাসী হাত উড়িয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও দাবী জানিয়েছেন।
তিনি এ সময় আরো বলেন,আমার’ একটি স্বপ্ন’ সরকারি ঘাটলা দখল মুক্ত করে অরুয়াইল বাজারের সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে, দখলদার বা ভূমিদস্যু মুক্ত ইউনিয়ন গড়তে চাই আমি। যাতে এ ইউনিয়নের জনগণ দখলের বন্দীর কুটিরে বন্দী না হয়ে সুন্দর পরিবেশে শান্তিতে স্বাধীন ভাবে বসবাস করতে পারে।এ ব্যপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মোসা বলেন,সরকারি সম্পত্তি কেউ দখল করতে পারবে না। জনস্বার্থে সরকারের স্থাপনা গুলো যারা দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। খোঁজ খবর নিয়ে সরকারি ঘাটলাটি অতি দূরত্ব
উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর