• লিড নিউজ সারাদেশ
  • অব‍্যহত রয়েছে চুকনগরে খুলনা জেলা প্ররিষদের জায়গাই অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্হাপনা উচ্ছেদ কাজ

অব‍্যহত রয়েছে চুকনগরে খুলনা জেলা প্ররিষদের জায়গাই অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্হাপনা উচ্ছেদ কাজ

প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ , ৩১ মার্চ ২০২১, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 weeks আগে

খুলনা জেলা প্রতিনিধি মোঃ শহীদুল ইসলাম।

খুলনা ডুমুরিয়ার চুকনগর শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব‍্যস্ততম যতিন-কাশেম সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা সকল স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) সকাল ৯•৩০ মিনিট থেকে (৩০ শে মার্চ) এখনও অব‍্যহত রয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। খুলনা জেলা পরিষদের সচিব বিষ্ণু পদ সরকার, ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রাকিবুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমান, সার্ভেয়ার আবু হানিফ সহ অন্যদের উপস্থিতিতে দু’টি বুলডোজার এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। উচ্ছেদ অভিযানে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার জনবহুল, ট্রানজিড, ব্যস্ততম এবং বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চুকনগর বাজার। এর অভ্যন্তরে জেলা পরিষদের মালিকানাধিন প্রায় ৭০ ফুট চওড়া যতিন-কাশেম সড়ক।

অথচ রাস্তার দু’পাশের প্রায় অর্ধেক পরিমান জায়গা- জমি যুগ যুগ ধরে ওই জমি স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে অন্তত শতাধিক এক তলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত পাঁকা ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি গড়ে তুলেছেন। এর ফলে সড়কটি সংকুচিত হওয়ায় যান ও জনসাধারণের চলাচলে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়।

গত বছর নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্ত কোন দখলদার স্থাপনা সরিয়ে না নিয়ে নিজ নিজ অবস্থনে বহাল থাকে।

এ দিকে জেলা পরিষদের পক্ষ হতে উচ্ছেদ অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গত মঙ্গলবার সড়কটি পরিদর্শন করে খুলনা জেলা পরিষদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা বুধবারের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা মালিককে নিজ নিজ দায়িত্বে তাদের অপসারণ করে নিতে নির্দেশ দেয়।

বুধবার জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার সরেজমিনে গিয়ে সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে লাল কালি দাগ দিয়ে মার্কিং করে দেয়।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএমএম মাহাবুর রহমান জানান, চুকনগর বাজার তিনটি জেলার সংযোগস্থল হওয়ায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু পরিষদকে কিছু না জানিয়ে সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে একতলা, দোতলা ও তিনতলা ভবনসহ অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে সড়কটি সংকোচিত হয়ে পড়েছে। জনগনের অবাধ চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
তাই জনস্বার্থে ও ভবিষত্যের কথা চিন্তা করে সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অবৈধ সকল স্থাপনা সরিয়ে নিতে মালিকদের নোটিশ করা হয়েছিল।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খুলনা জেলা পরিষদের এই জমি ভোগ দখল করে আসছে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি। তারা অনেকে দোকান ঘর ও বাসা বাড়ি তৈরী করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়ে আয় রোজগার করছেন। এতে এক দিকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে অপর দিকে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। জনভোগান্তি নিরসন এবং সরকারি জায়গায় উদ্ধার লক্ষে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর